বিশ্বকাপের শিরোপা ছাড়াই মেসির সামনে নবম ব্যালন ডিঅরের সুযোগ
বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও লিওনেল মেসির সামনে রেকর্ড নবম ব্যালন ডিঅর জয়ের সুযোগ এখনো খোলা রয়েছে। মঙ্গলবার ২১ জুলাই প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পুরস্কারটির আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল জানিয়েছে, বিজয়ী নির্বাচনে বিশ্বকাপ জয় বা ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলা বাধ্যতামূলক শর্ত নয়।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি গোল্ডেন বল জিতেছেন। মেসি পেয়েছেন সিলভার বল। তবে আট গোল করে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় ফাইনালে তোলায় ব্যালন ডিঅরের আলোচনায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ফ্রান্স ফুটবলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিশ্বকাপ জয় একজন খেলোয়াড়ের সম্ভাবনা বাড়ালেও সেটিই পুরস্কার পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। পুরো মৌসুমের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা, দলের সাফল্যে ভূমিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রভাব বিবেচনা করেই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়। ইউরোপের বাইরে খেলেও একজন ফুটবলার এই পুরস্কার জিততে পারেন।
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের কারণে রদ্রির পাশাপাশি লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবার্সিও আলোচনায় রয়েছেন। এ ছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন এবং বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানো আরও কয়েকজন তারকা এবারের লড়াইয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন।
বিশ্বকাপের বছরে চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়ের ব্যালন ডিঅর জয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ববি চার্লটন, পাওলো রসি, লোথার ম্যাথিউস, জিনেদিন জিদান, রোনালদো নাজারিও ও ফাবিও কানাভারো একই বছরে বিশ্বকাপ এবং ব্যালন ডিঅর জিতেছিলেন।
তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন না হয়েও ব্যালন ডিঅর জয়ের নজিরও কম নয়। ২০১০ সালে মেসি বিশ্বকাপজয়ী আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভিকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জেতেন। ২০১৪ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী তারকাদের টপকে সেরা হন। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা লুকা মদরিচও ফ্রান্সের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের পেছনে ফেলেছিলেন।
২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২৩ সালে অষ্টমবার ব্যালন ডিঅর জেতেন মেসি। এবার শিরোপা না পেলেও বিশ্বকাপে তাঁর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স তাঁকে নবম পুরস্কারের দৌড়ে রাখতে পারে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে ব্যালন ডিঅরের ৭০তম আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানেই জানা যাবে, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের তারকাদের পেছনে ফেলে মেসি আরেকবার ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি নিজের করে নিতে পারেন কি না।