বদলেছে জমির নামজারির নিয়ম, ওয়ারিশদের জন্য নতুন নির্দেশনা
জমি কেনা বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পাওয়ার পর সরকারি রেকর্ডে মালিকের নাম তুলতে নামজারি বা মিউটেশন বাধ্যতামূলক। নতুন নিয়মে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে ভাগ না হলে সব ওয়ারিশের নাম একই খতিয়ানে যৌথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধু যৌথ নামজারির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত বণ্টননামা লাগবে না। ওয়ারিশ সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে একই খতিয়ানে সবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। তবে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত আপস-বণ্টননামা দলিল থাকতে হবে।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো ওয়ারিশকে বাদ দিয়ে আলাদা নামজারি করা যাবে না। সব ওয়ারিশের তথ্য, ওয়ারিশ সনদ এবং প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র একসঙ্গে দাখিল করতে হবে। কোনো ওয়ারিশের নাম বাদ পড়লে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
ওয়ারিশ সনদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিতে হবে। শুধু বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদন নামঞ্জুর করা যাবে না।
অন্যদিকে, ওয়ারিশরা যদি জমি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে পৃথক খতিয়ান নিতে চান, তাহলে নিবন্ধিত বণ্টননামা বা আপস-বণ্টননামা দলিল প্রয়োজন হবে। সেই দলিল অনুযায়ী প্রত্যেকে নিজ নামে আলাদা খতিয়ান করতে পারবেন।
নতুন নিয়মে নামজারি বা খতিয়ান ছাড়া জমি রেজিস্ট্রি, বিক্রি, দান বা হেবা করার সুযোগ রাখা হয়নি। দলিল নিবন্ধনের সময় নামজারির খতিয়ান দেখানো বাধ্যতামূলক। তবে আগে থেকে নামজারি সম্পন্ন এবং খতিয়ান সঠিক থাকলে নতুন করে নামজারি করতে হবে না।
বর্তমানে ডিজিটাল ভূমিসেবা পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে নামজারির আবেদন করা যায়। আবেদন করতে সাধারণত দলিলের কপি, আগের খতিয়ান, দাগ নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশসূত্রে হলে ওয়ারিশ সনদ ও মৃত্যুসনদ এবং নির্ধারিত ফি জমার রসিদ লাগে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য, আবেদন জমা হওয়ার ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে নামজারি প্রক্রিয়া শেষ করা। তবে কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে বা জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে সময় আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মে ওয়ারিশদের মধ্যে প্রতারণার সুযোগ কমবে, সরকারি রেকর্ড আরও হালনাগাদ হবে এবং জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা কমতে পারে। একই সঙ্গে নারী ওয়ারিশদের অধিকার সুরক্ষায় এই পদ্ধতি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সব ওয়ারিশের কাগজ একসঙ্গে সংগ্রহ করা, বিদেশে থাকা সদস্যদের তথ্য নেওয়া এবং পৃথক খতিয়ানের জন্য বণ্টননামা নিবন্ধনের খরচ ও সময় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।