রঙ, সুর ও উচ্ছ্বাসে শুরু বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে। সংস্কৃতি, সংগীত, নৃত্য এবং ঐক্যের বার্তা নিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উন্মোচন করেছে সহ আয়োজক মেক্সিকো।
বৃহস্পতিবার ১২ জুন, মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও বানোর্তে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত কিন্তু আকর্ষণীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে। মাত্র ১৭ মিনিটের আয়োজনে ছিল না অতিরিক্ত আড়ম্বর। বরং মেক্সিকোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং বিশ্বকাপের চেতনা তুলে ধরতেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অতিথি ও সমর্থকদের স্বাগত জানানো হয় আন্তরিক বার্তায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ফুটবলকে মানুষের মধ্যে সংযোগ, সম্প্রীতি এবং বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বৈচিত্র্যের মধ্যেও একতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় পুরো আয়োজনজুড়ে।
স্টেডিয়ামের কেন্দ্রভাগে বিশ্বকাপ ট্রফির বিশাল প্রতিরূপ প্রদর্শনের পাশাপাশি বর্ণিল পোশাকে নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রঙিন আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় মাঠ এবং গ্যালারিজুড়ে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ভেনেজুয়েলার জনপ্রিয় শিল্পী ড্যানি ওশান। তার প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে তোলে। পরে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সংগীত পরিবেশন করে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দুই জনপ্রিয় তারকা শাকিরা ও বার্না বয়। তাদের পরিবেশনার সময় পুরো স্টেডিয়াম সংগীত আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন জে বালভিন, টাইলা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্দা এবং লিলা ডাউনস। বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের উপস্থিতি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক চরিত্রকে আরও শক্তভাবে তুলে ধরে।
বিশ্বখ্যাত প্রযোজক মার্কো বালিচের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সাজানো অনুষ্ঠানে মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী পাপেল পিকাদো শিল্পকলার উপস্থাপনাও দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
জমকালো উদ্বোধনী আয়োজনের পর মাঠের লড়াইও শুরু হয়। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে ফুটবলের এই বৈশ্বিক আসরের আয়োজন করছে।