২৪ বছরের অপেক্ষা ভাঙার স্বপ্নে ব্রাজিল
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল হিসেবে পরিচিত ব্রাজিল আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে মাঠে নামছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি কখনও বিশ্বকাপের আসর থেকে অনুপস্থিত না থাকলেও সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর।
২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর একাধিক আসরে সম্ভাবনা জাগিয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি সেলেসাওরা। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রকাশিত বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও দলীয় বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আসরে দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ব্রাজিল।
সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ স্মৃতিও দলটির জন্য খুব একটা সুখকর নয়। ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় পরাজয় এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। পরে ২০২২ বিশ্বকাপেও কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।
তবে এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। আগের আসরগুলোর মতো শিরোপার একক দাবিদার হিসেবে নয়, বরং তুলনামূলক কম প্রত্যাশার চাপ নিয়েই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে দলটি। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই অবস্থান খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক ও মুক্ত ফুটবল খেলতে সহায়তা করতে পারে।
দলের দায়িত্বে রয়েছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ সাফল্যের অধিকারী এই কোচ রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলানের হয়ে পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। এবার তার লক্ষ্য ব্রাজিলকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে ফিরিয়ে আনা। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিজ্ঞতা তুলনামূলক সীমিত। তার অধীনে ব্রাজিলের শুরুতে কলম্বিয়া ও চিলির বিপক্ষে জয় এলেও ফ্রান্সের কাছে হার দেখতে হয়েছে।
বর্তমান দলে সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার দক্ষতায় প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। জাতীয় দলের হয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা আদায়ের লক্ষ্যে তাকে কেন্দ্রীয় আক্রমণভাগে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন আনচেলত্তি।
অন্যদিকে দীর্ঘ সময়ের চোট ও নানা আলোচনা সত্ত্বেও বিশ্বকাপ দলে জায়গা ধরে রেখেছেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করেননি কোচ। অনেকের বিশ্বাস, দীর্ঘ বিরতির পর তার প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
শুধু নেইমার ও ভিনিসিয়ুসই নয়, রাফিনিয়া, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, এন্দ্রিক, মাতেউস কুনিয়া, ব্রুনো গিমারায়েস, কাসেমিরো, মারকিনিয়োস ও অ্যালিসনের মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের উপস্থিতিতে স্কোয়াডটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট দলটি শুরু থেকেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে সক্ষম। একই গ্রুপে রয়েছে স্কটল্যান্ড ও হাইতিও।
পরিসংখ্যানের দিক থেকেও রয়েছে একটি আকর্ষণীয় মিল। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। এবারও ঠিক ২৪ বছর পর উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে নামছে সেলেসাওরা। ইতিহাসের সেই স্মৃতি নতুন করে সৌভাগ্যের বার্তা বয়ে আনে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।