ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে লন্ডনে স্মরণসভা, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিসহ ৭ দাবি
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লন্ডনে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল রোডের আলহামরা রেস্টুরেন্টে বঙ্গবীর ওসমানী মেমোরিয়েল ফাউন্ডেশন ইউকের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ওসমানীর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন বক্তারা।
সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব কবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খান জামাল নুরুল ইসলাম। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ জিলু খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি কে. এম. আবু তাহের চৌধুরী।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) মঈন উদ্দিন খান।
বিশেষ অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও সাংবাদিক বকশী ইকবাল আহমদ, বাংলা পোস্টের ডাইরেক্টর শেখ মফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ, সাংবাদিক রহমত আলী, ব্রিক লেন ট্রাস্টের সভাপতি শাহ মুনিম, ব্যারিস্টার আমিন চৌধুরী, সংগঠনের ট্রেজারার সৈয়দ সোহেল আহমদ, সলিসিটর এম. ইয়াওর উদ্দিন, সাবেক কাউন্সিলর ওসমান গনি ও মোহাম্মদ শাহিদ আলী, সাংবাদিক বদরুজ্জামান বাবুল, কবি শাহাবুজ্জামান কামাল, অধ্যাপক মিসবাহ কামাল, ক্যাম্পেইন কমিটির সদস্য সচিব এম. এ. রব, গ্লোবাল জালালাবাদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ফারুক আহমদ, জকিগঞ্জ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, কমিউনিটি নেতা আমির উদ্দিন মাস্টার ও আব্দুস সাত্তার, সাংবাদিক খালেদ মাসুদ রনি এবং হাজী মোহাম্মদ ফারুক মিয়া।
এ ছাড়া শাহিন রশিদ, ব্যারিস্টার আব্দুল আউয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও কমিউনিটি নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণসভায় উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে যথাযথ মর্যাদায় ‘বঙ্গবীর’ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা এবং তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা।
এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যক্রমে ওসমানীর জীবন, সামরিক নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ও জাতীয় অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
সিলেটের ওসমানী জাদুঘরকে আন্তর্জাতিক মানের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র, আর্কাইভ ও জাদুঘরে উন্নীত করার দাবিও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের গবেষকদের মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ইতিহাস এবং ওসমানীর জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ওসমানীর নামে আধুনিক সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সিলেটের প্রবেশদ্বার মাধবপুরে তাঁর নামে ঐতিহাসিক স্মারক তোরণ নির্মাণ এবং হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া বাংলোকে কেন্দ্র করে আধুনিক মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণাগার ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা।
বক্তারা বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও তা শিক্ষা ও অনুপ্রেরণার উৎস। যাঁদের নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সাহস স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তাঁদের যথাযথ সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া জাতির নৈতিক দায়িত্ব।
তাঁদের ভাষ্য, বঙ্গবীর ওসমানী শুধু একজন সামরিক কর্মকর্তা বা সেনানায়ক ছিলেন না। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নেতৃত্ব ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ভূমিকা জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তাঁর অবদান সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা সরকারের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে রেখে জাতীয় মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় বীরদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মাওলানা হাসান নুরী চৌধুরী পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন। পরে হাফেজ মাওলানা সালেহ আহমদ বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।