এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশের তিন গবেষক
এশিয়ার শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশের তিন গবেষক। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট প্রকাশিত এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০ অনারি তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মারজানা আক্তার, আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক।
শনিবার (৩১ মে) প্রকাশিত এ তালিকায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণায় অবদান, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন এবং একাডেমিক ও শিল্পখাতে নেতৃত্বের স্বীকৃতির ভিত্তিতে নির্বাচিত বিজ্ঞানীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
এবারের তালিকায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী শিমন সাকাগুচি, রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া এবং আবেল পুরস্কারজয়ী গণিতবিদ মাসাকি কাশিওয়ারার মতো বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের এই তিন গবেষক।
নির্বাচিত বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশের পোলট্রি খাতে প্রথমবারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাস শনাক্ত করে ভাইরোলজি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। চলতি বছরের নির্বাচিতদের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ গবেষক হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মধ্য থেকে নির্বাচিত ১০ জন তরুণীর একজন হিসেবে তিনি ২০২৫ সালে জাতিসংঘের ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি বায়োসিকিউরিটি, বায়োসেফটি এবং সায়েন্স ডিপ্লোম্যাসি বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করছেন।
মারজানার গবেষণা জীবনের পেছনে রয়েছে অনুপ্রেরণাদায়ক সংগ্রামের গল্পও। মাস্টার্স অধ্যয়নের সময় গর্ভাবস্থায় গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পথে গুরুতর শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হলেও তিনি থেমে যাননি। সন্তান জন্মের কয়েক সপ্তাহ পরই সফলভাবে মাস্টার্স থিসিস ডিফেন্ড করে তিনি গবেষণায় নিজের অদম্য প্রত্যয়ের পরিচয় দেন।
তালিকায় স্থান পাওয়া ড. তাহমিদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। মা ও শিশুর পুষ্টি উন্নয়ন, অপুষ্টি প্রতিরোধ, শিশুস্বাস্থ্য এবং ডায়রিয়া মোকাবিলায় তার গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রযুক্তি উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পেয়েছেন ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক। টেক্সটাইল শিল্পে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উন্নয়নে তার গবেষণা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
জানা গেছে, তার প্রতিষ্ঠিত ডিকার্বোনাইজেশন ল্যাবে কম ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে কাপড়ে রং করার সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ চলছে, যা দেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় বাংলাদেশের তিন গবেষকের অন্তর্ভুক্তি দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার স্বীকৃতি।