২ দশমিক ১ লাখ টন সার কেনার অনুমোদন দিল সরকার
দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার টন সার ক্রয়ের একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আসন্ন মৌসুমে কৃষকদের জন্য সার সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
৫ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের চলতি বছরের পঞ্চম সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়, যেখানে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে জানানো হয়, মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে একাদশ ঐচ্ছিক লটের আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩১৯ দশমিক ৫১ কোটি টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫১ মার্কিন ডলার।
একই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ১৭তম ও ১৮তম লটের আওতায় পৃথকভাবে ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে মোট ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিটি লটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৪ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা।
এছাড়া সৌদি আরবের মা আদেন কোম্পানি থেকে ২০২৬ সালের প্রথম লটের আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির সুপারিশ করেছে কমিটি। এতে ব্যয় হবে ৩২৩ দশমিক ৯২ কোটি টাকা।
ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রেও দুটি পৃথক উৎস থেকে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাফকো বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে প্রায় ১৫৩ দশমিক ০৮ কোটি টাকায়। পাশাপাশি সৌদি আরবের স্যাবিক এগ্রি নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় হবে প্রায় ২০৫ দশমিক ৩১ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব সার আমদানির মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সার সরবরাহ ধারাবাহিক রাখা সম্ভব হবে এবং দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
মাঠের ফসল যেমন কৃষকের ঘামে বাঁচে, তেমনি সময়মতো সারের নিশ্চয়তাই হয়ে ওঠে দেশের খাদ্য স্বপ্ন টিকে থাকার নীরব ভরসা।