আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন, সপ্তাহজুড়ে লোকসানের মুখে মূল্যবান ধাতু
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কার প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।
শুক্রবার (৬ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম কমে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৪৪৫ দশমিক ৫১ মার্কিন ডলারে নেমে আসে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কম। বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
একই সময়ে আগস্ট মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭১ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কম।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে এমন ধারণাও বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্রাপেলের মতে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতির কারণে স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সাধারণত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন। বিশেষ করে মে মাসের নন ফার্ম পে রোল প্রতিবেদনের ফলাফল ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদহার নীতির বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৮০ দশমিক ৪০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯৮ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য সুদহার নীতির পরিবর্তনের কারণে মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।