চামড়া শিল্পকে রপ্তানিমুখী খাতে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আসছে
কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (৩০ মে) রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কোরবানির কাঁচা চামড়া ক্রয় বিক্রয় কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আগামী জুলাই মাসের মধ্যে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার, ব্যবসায়ী, আড়তদার এবং মসজিদ মাদ্রাসাভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের সমন্বিত উদ্যোগের কারণে এবারের কোরবানির অধিকাংশ চামড়া ব্যবহার উপযোগী অবস্থায় সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, রাজধানীর আমিনবাজার, পোস্তা এবং সাভারের হেমায়েতপুরের আড়তগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হয়েছে এবং সেখানে সংরক্ষণের জন্য লবণ প্রয়োগের কাজ চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোরবানির সব চামড়া একসঙ্গে রাজধানীতে আসে না এবং পুরো সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হতে সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে।
চামড়া সংরক্ষণে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে চামড়া পরিষ্কার করে যথাযথভাবে লবণ প্রয়োগ করা গেলে তা তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। অন্যথায় চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ওয়েট ব্লু, ক্রাস্ট লেদার এবং পরবর্তীতে ফিনিশড লেদারে রূপান্তরিত হয়। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জুতা, স্যান্ডেল, বেল্টসহ নানা ধরনের চামড়াজাত পণ্য উৎপাদিত হয়। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে সংরক্ষণে অবহেলা করলে চামড়ার শিল্পমূল্য নষ্ট হয়ে যায়।
চামড়া পাচার রোধে সরকারের অবস্থান কঠোর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো চামড়া যাতে অবৈধভাবে বাইরে চলে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাভার চামড়া শিল্পনগরী এবং কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার সিইটিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে স্থানান্তরের পরও কিছু ট্যানারি এখনও পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না। সিইটিপির বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা গেলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পের সম্প্রসারণ আরও সহজ হবে।
তিনি জানান, সিইটিপির প্রকল্পগত সক্ষমতা দৈনিক ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হলেও বর্তমানে কার্যকর সক্ষমতা ১৪ থেকে ১৮ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে রয়েছে। এ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
চামড়ার গুণগত মান বাড়াতে জবাই ও স্কিনিং প্রক্রিয়া আধুনিকায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষতার সঙ্গে চামড়া ছাড়ানো না হলে এর মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পুরো প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে আধুনিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার এবং রপ্তানির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারেও এ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, কোরবানির চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সংগ্রহকেন্দ্রে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করেছে। বিসিক এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব লবণ বিতরণ করা হয়েছে যাতে চামড়া দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করে শিল্পে ব্যবহার উপযোগী রাখা যায়।
এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত মো. আবদুর রহিম খান, বিসিকের মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ টেনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।