নতুন নকশার ১০ টাকার নোট বাজারে, আসল নোট চেনার উপায় জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক
নতুন নকশার ১০ টাকার নোট আজ ৩ ফেব্রুয়ারি বাজারে ছাড়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন এই নোটটি প্রথমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে বিতরণ শুরু হবে এবং পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও পর্যায়ক্রমে ছাড়া হবে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরযুক্ত নতুন ১০ টাকার নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৩ মিমি × ৬০ মিমি। নোটে জলছাপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ। নোটটির নকশায় গোলাপি রঙের আধিক্য রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি মুদ্রিত রয়েছে। মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার নকশা যুক্ত করা হয়েছে। নোটের পেছনভাগে গ্রাফিতি ২০২৪ এর ছবি মুদ্রিত রয়েছে।
নতুন নোটটি আসল কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কথা জানিয়েছে। নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে ১০ টাকা লেখা রয়েছে। নোটটি আলোর বিপরীতে ধরলে লেখা স্পষ্ট দেখা যাবে। নোট নাড়াচাড়া করলে নিরাপত্তা সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হবে, যা নকল নোট শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করবে।
এছাড়া গভর্নর স্বাক্ষরের ডান পাশে See through image হিসেবে একটি বিশেষ প্যাটার্ন রয়েছে, যা আলোর বিপরীতে ধরলে ১০ লেখা দৃশ্যমান হবে। একইসঙ্গে নোটের সম্মুখভাগের উপরে বাংলাদেশ ব্যাংক লেখার নিচে এবং নোটের পেছনভাগের বাম দিকের গ্লিউইশ প্যাটার্নের বাইরের অংশে Microprint হিসেবে BANGLADESH BANK লেখা মুদ্রিত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, নতুন নকশার ১০ টাকার নোট চালুর পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ থাকবে। পাশাপাশি মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য ১০ টাকার নমুনা নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে, যা বিনিময়যোগ্য নয় এবং টাকা জাদুঘর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।
নতুন নোটের এই আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য শুধু অর্থের নিরাপত্তাই বাড়াবে না, মানুষের আস্থাকেও আরও দৃঢ় করবে, কারণ সঠিক হাতে সঠিক মুদ্রাই দেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত গড়ে তোলে।