বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া বাহক কিনা জানা জরুরি, বললেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের থ্যালাসেমিয়া বাহক পরীক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই থ্যালাসেমিয়া বাহক হলে সন্তান এই জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই আগেভাগেই পরীক্ষা করে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
শুক্রবার ৮ মে রাজধানীর মালিবাগে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল আয়োজিত বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জন্মগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ, যা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ জানেন না তারা এই রোগের বাহক কিনা। এজন্য বিয়ের আগেই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশে প্রতি নয়জন মানুষের মধ্যে একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক। প্রতি বছর প্রায় আট হাজার শিশু এই রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গণসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি গণমাধ্যমকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো গেলে সাধারণ মানুষের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং রোগ প্রতিরোধ সহজ হবে।
এর আগে তিনি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মনজুর মোরশেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, ফাউন্ডেশনের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজিয়া ইসলাম এবং ডা. হুমায়ুন কবির।