সব সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি, সর্বনিম্ন প্যাকেট ১০০ টাকা প্রস্তাব
দেশে তামাক ব্যবহার কমাতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এ লক্ষ্যে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ দাবি জানান অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা। কর্মশালার আয়োজন করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।
কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ, যা প্রায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ রাজস্ব আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমান জটিল কর কাঠামো তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর নয় বলেও মত দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট সহজলভ্য হওয়ায় তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে আসন্ন বাজেটে সিগারেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের দাম ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সব স্তরে নির্দিষ্ট কর আরোপের কথাও বলা হয়েছে।
গবেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের মূল্য বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, তামাকের ক্ষতিকর দিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তারা মত দেন।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তামাক পণ্যে কার্যকর কর আরোপ ও মূল্য বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং এ বিষয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।