তেলের বাজার অস্থিরতায় মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভে চাপের শঙ্কা বাংলাদেশ ব্যাংকের
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য চাপ নিয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলে তা দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তেলের দাম ৭০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে আরও ৩০ শতাংশ বাড়লে জ্বালানি ব্যয় সরাসরি বৃদ্ধি পাবে। একই সময়ে বিনিময় হার অবমূল্যায়িত হলে আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে তা ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াবে।
মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং প্রথম দুই প্রান্তিকে বিনিময় হার প্রায় পাঁচ শতাংশ অবমূল্যায়িত হলে বছরের শেষে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক পাঁচ থেকে দুই শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে সরকার যদি জ্বালানি মূল্যের চাপ নিজস্বভাবে বহন করে, তাহলে এই প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে, সব পরিস্থিতিতেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের কারণে রিজার্ভ কমে যেতে পারে। সম্মিলিত প্রভাবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রিজার্ভ প্রায় ছয় দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিকল্প বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিনিময় হার যদি ১০ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়, তাহলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও তীব্র হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা দ্রুত বাড়বে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপও বাড়বে।
এ পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নীতিগত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিময় হারে কিছুটা নমনীয়তা আনা, জ্বালানি মূল্যে আংশিক সমন্বয় এবং রাজস্ব ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান মুদ্রানীতিও সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে।