যমুনা সেতু এলাকায় দীর্ঘ যানজট, ঢাকামুখী যাত্রায় চরম ভোগান্তি
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ বাড়তে থাকায় যমুনা সেতু ও এর পশ্চিম সংযোগ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
শুক্রবার ২৭ মার্চ ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়ে, যার প্রভাব সেতুর পশ্চিম অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ, মুলিবাড়ি চেকপোস্ট ও কড্ডার মোড় এলাকায় দীর্ঘ সারিতে আটকে থাকতে দেখা যায় যানবাহন।
ঢাকাগামী এক যাত্রী মনোয়ার হোসেন জানান, ভোরে যাত্রা শুরু করেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় ব্যয় করতে হয়েছে। যেখানে সেতু পার হতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিনিট লাগে, সেখানে তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সেতুর ওপর ও পূর্ব প্রান্তে যান চলাচল ধীরগতির হওয়ায় এর প্রভাব দ্রুত পশ্চিম অংশে পড়ে। একই সঙ্গে ঈদের ছুটি শেষে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মস্থলে ফেরায় চাপ আরও বেড়েছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সকাল দিকে কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর আবারও যানজট বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ ও সেতু কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় যানজট না থাকলেও সেতুর পশ্চিম প্রান্তে চাপ বেশি রয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চল থেকে ছয় লেন সড়ক দিয়ে বিপুল যানবাহন এলেও সেতুর ওপর ঢাকামুখী মাত্র দুই লেন ব্যবহারের সুযোগ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই যানজট তৈরি হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩৭ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার করেছে এবং শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আরও প্রায় ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করেছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে বিভিন্ন সময়ে সেতুর পশ্চিম অংশে দীর্ঘ যানজট দেখা দিচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদ-পরবর্তী সময়ে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠেছে।