প্রবাসীদের জন্য হাউজিং নয়, সিলেটে দরকার পরিকল্পিত বিজনেস জোন-মিজানুর রহমান মিজান
সিলেটে প্রবাসীদের জন্য বড় আকারের আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রবাসী বিনিয়োগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত একটি আধুনিক বিজনেস জোন গড়ে তোলার দাবি উঠছে।
রোববার ৯ মার্চ বিষয়টি নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান।
তিনি বলেন, সিলেটের জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার একর জমিতে প্রবাসীদের জন্য বড় ধরনের আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। প্রবাসীদের বিষয়টি বিবেচনায় এনে এমন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানানো উচিত। তবে এ ধরনের বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল নাও দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, প্রবাসীরা ইতোমধ্যেই দেশে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বড় বড় বাড়ি ও ভবন নির্মাণ করেছেন। কিন্তু বছরের অধিকাংশ সময় এসব বাড়ি খালি পড়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে সেখানে কেবল একজন দারোয়ান বা কেয়ারটেকার বসবাস করেন। ফলে এত বড় বিনিয়োগ স্থানীয় অর্থনীতি বা সমাজের জন্য প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনে না।
তিনি মনে করেন, প্রবাসীদের বিনিয়োগকে উৎপাদনমুখী খাতে ব্যবহারের জন্য সিলেটে ইউরোপীয় আদলে একটি আধুনিক বিজনেস জোন গড়ে তোলা যেতে পারে। এই ধরনের একটি পরিকল্পিত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে প্রবাসীরা শিল্প, ব্যবসা, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটনসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন।
এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালী হবে। এতে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলার সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তার মতে, শুধুমাত্র আবাসনভিত্তিক প্রকল্প প্রবাসীদের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হলেও তা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সীমিত ভূমিকা রাখে।
মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সিলেটের টেকসই উন্নয়নের জন্য এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত অর্থনৈতিক উদ্যোগ। একটি আধুনিক বিজনেস জোন প্রতিষ্ঠা করা গেলে প্রবাসীদের বিনিয়োগের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি মনে করেন, সিলেটের উন্নয়নে এমন উদ্যোগ নেওয়া দরকার যা শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথ তৈরি করবে।