লন্ডন হাই কমিশন পেশাদার কূটনীতির প্রয়োজনীয়তা:নজরুল ইসলাম বাসন
লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশের হাই কমিশনকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই মিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে নেতৃত্বের প্রশ্নটি বরাবরই সংবেদনশীল এবং তা দেশের কূটনৈতিক মানদণ্ডের প্রতিফলন হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডন মিশনের নেতৃত্বে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক থাকলে প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নত হয়।
লন্ডনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক নেতৃত্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে লন্ডনে বাংলাদেশের হাই কমিশনার ছিলেন মরহুম ফখরুদ্দীন আহমেদ, যিনি পরবর্তীতে দেশের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর শওকত আলী এই পদে দায়িত্ব নেন। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার দায়িত্বকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে জেনারেল শফিউল্লাহ এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সরকারের আমলে লন্ডন হাই কমিশনে নতুন নেতৃত্ব আসে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে দলের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ড. ইউসুফকে হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাহমুদ আলী এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সময় হাই কমিশনের কার্যক্রম ও পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মুনা তাসনীম লন্ডনে বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্ব শেষে আবিদা ইসলাম এই পদে দায়িত্ব নেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা দেখা যায় এবং পরে সরকার তাকে প্রত্যাহার করেছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লন্ডনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে পেশাদার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ কূটনীতিক দায়িত্বে থাকলে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা, প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনগুলোকে পেশাদার কূটনীতির ধারায় পরিচালিত করা হলে তা দেশের মর্যাদা ও কূটনৈতিক সক্ষমতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। দায়িত্বশীল ও দক্ষ নেতৃত্বই পারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে।