সময়ের হিসেবে এগিয়ে থেকেও গন্তব্যে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ:মোহাম্মদ রহমত আলী
ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ প্রতিদিন সূর্যোদয় দেখে লন্ডনের প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার হিসাবে আমরা এগিয়ে।
মঙ্গলবার ৩ মার্চ প্রকাশিত এক মতামতে লেখক মো. রহমত আলী এই সময়গত অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে জাতীয় উন্নয়ন ও বাস্তব অগ্রযাত্রা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সময়ের হিসেবে এগিয়ে থাকা মানেই উন্নয়নে এগিয়ে থাকা নয়। ব্রিটেন দিন শুরু করে বাংলাদেশের কয়েক ঘণ্টা পর, কিন্তু অর্থনীতি, শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিচারে তারা বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোর একটি। অন্যদিকে বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় অগ্রসর হলেও সম্ভাবনার পূর্ণ বাস্তবায়নে এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
লেখক সময়কে কেবল ঘড়ির মাপকাঠিতে নয়, বরং সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, যে জাতি সময়কে দক্ষতা, পরিকল্পনা ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে কাজে লাগাতে পারে, তারাই এগিয়ে যায়। সময় আগে পাওয়া একটি সম্ভাবনা মাত্র, কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে উৎপাদনশীল সম্পদে রূপান্তর করতে প্রয়োজন শৃঙ্খলা, সততা ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অবকাঠামো, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে তরুণদের কর্মসংস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং সুশাসন জোরদারে সময়ের যথাযথ ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন তা কেবল পরিসংখ্যানে নয়, মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে প্রতিফলিত হয়।
এই প্রেক্ষাপটে লেখক মনে করেন, সময়ের পার্থক্যকে শুধুমাত্র ভূগোলের বিষয় হিসেবে না দেখে জাতীয় চরিত্রে রূপান্তর করা জরুরি। দায়িত্বশীলতা, সময়নিষ্ঠা ও কর্মসংস্কৃতি যদি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়, তবে অগ্রগতির গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
বাংলাদেশ আজ সম্ভাবনার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। সূর্য আমাদের আকাশে আগে ওঠে, এখন প্রয়োজন সেই আলোর শক্তিকে কাজে লাগানো। সময় এগিয়ে দিয়েছে সুযোগ, আর সেই সুযোগকে সার্থক করে তুললেই উন্নয়নের পথ হবে আরও সুদৃঢ় ও আলোকিত।