মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর সৃষ্ট অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সোমবার ২ মার্চ এশীয় বাজার খোলার শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুড ও নিমেক্স লাইট সুইট অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশের বেশি লাফিয়ে ওঠে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। পরে কিছুটা সমন্বয় হলেও বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে।
সর্বশেষ হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ দশমিক ৩০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে নিমেক্স লাইট সুইট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭২ দশমিক ৭০ ডলার, যা প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
স্থানীয় সময় শনিবার ইরানে আকস্মিক সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ নেতার নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের হাইফা সংলগ্ন একটি সামরিক স্থাপনায় রকেট ও ড্রোন হামলার পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের মিত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিক্রিয়া এবং লেবাননের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারদরে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, আঞ্চলিক সংঘাতের অভিঘাত কত দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থিতিশীলতা ফিরলেই কেবল বাজারে আস্থা ফিরবে, আর সেটিই এখন বিশ্ব অর্থনীতির বড় প্রত্যাশা।