গুলি চালানোর নির্দেশ সংক্রান্ত তথ্য না দেওয়ায় সিলেটের ডিসিকে আদালতের শোকজ
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর নির্দেশদাতার তথ্য তদন্ত কর্মকর্তাকে সরবরাহ না করায় জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন আদালত।
৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের আমলি আদালত নম্বর ২ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার এ আদেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি এখনো নোটিশ হাতে পাননি এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। তার স্ত্রী রুলী বেগম থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন।
মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সিলেটের পরিদর্শক নূর মোহাম্মদকে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত বছরের ২২ এপ্রিল তিনি জেলা প্রশাসক ও বিজিবির শ্রীমঙ্গল সেক্টর সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালকের কাছে পৃথকভাবে তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চান। জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঘটনাদিনে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর বিজিবির কাছে চাওয়া হয় ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের তালিকা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিজিবি প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা দেওয়া হয়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে অবহিত করলে গত বছরের ১৫ জুন আদালত জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে তথ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনার ভূমিকে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা যায়। একাধিকবার নির্দেশের পরও তথ্য না পাওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ প্রেক্ষাপটে ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলা দায়ের হলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি, ফলে বিচারকার্য শুরু করা সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং তা আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে বলেও আদেশে বলা হয়।
নোটিশে জেলা প্রশাসককে ১৫ দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক জবাবদিহি এখন এই মামলার অগ্রগতির প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।