র্যাব সদস্যকে হত্যা করে শিশুকে জিম্মি, সিলেটে আটক মাদক কারবারি
সিলেট নগরে পুলিশের ধাওয়া এড়িয়ে পালানোর সময় এক র্যাব সদস্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর একটি বাসায় ঢুকে দুই বছরের এক শিশুকে জিম্মি করার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ২৩ মে দুপুরে নগরের কিনব্রিজ ও তোপখানা এলাকায় ধারাবাহিক এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, দুপুরের দিকে কিনব্রিজ এলাকায় কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারি প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রিতে জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে ছিনতাইকারী হিসেবেও পরিচিত। এ সময় পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন।
পালানোর সময় আসাদুল আলম বাপ্পী নামের এক যুবক তোপখানা এলাকার দিকে দৌড়ে যান। ওই সময় সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ব্যক্তিগত কাজে অবস্থান করছিলেন র্যাবের কনস্টেবল ইমন আচার্য। পরিস্থিতি দেখে তিনি অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা করলে আসাদুল তাঁর বুকের বাঁ পাশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইমন আচার্যকে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে আসাদুল তোপখানা এলাকার একটি বাসায় ঢুকে পড়েন। তখন ঘরের দরজা খোলা ছিল এবং একটি শিশু বিছানায় খেলছিল। শিশুটির মা পাশেই আরেক নারীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। অভিযুক্ত ঘরে ঢুকেই শিশুর গলায় ছুরি ধরে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কৌশলী পদক্ষেপের মাধ্যমে তাঁকে আটক করতে সক্ষম হন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও জব্দ করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহত র্যাব সদস্যের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনায় নগরজুড়ে উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।