ক্রিকেট আইনে বড় পরিবর্তন আনল এমসিসি, কার্যকর হবে ১ অক্টোবর থেকে
ক্রিকেটের আইনকানুনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব এমসিসি। নতুন সংস্করণের ক্রিকেট আইনে মোট ৭৩টি সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন এসেছে বহুদিনের প্রচলিত একটি নিয়মে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, একাধিক দিনের ক্রিকেটে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও খেলা বন্ধ হবে না। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে পুরো ওভার সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন ব্যাটারকে সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে নেমে খেলা শুরু করতে হবে।
এমসিসি জানিয়েছে, দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাটিং দল অযৌক্তিক সুবিধা পায় এবং ম্যাচের নাটকীয়তা কমে যায়। কারণ এতে নতুন ব্যাটার কঠিন পরিস্থিতিতে নামা এড়াতে পারেন, অথচ পরদিন আবার বাকি বল খেলতেই হয়।
বাউন্ডারি লাইনের কাছে নেওয়া ক্যাচের নিয়মেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ফিল্ডার বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে শূন্যে থাকা অবস্থায় মাত্র একবারই বল স্পর্শ করতে পারবেন। ক্যাচ সম্পূর্ণ করতে হলে তাকে অবশ্যই বাউন্ডারির ভেতরে থাকতে হবে। আইসিসি ইতোমধ্যে এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশনে যুক্ত করেছে।
প্রথমবারের মতো প্রাপ্তবয়স্কদের ক্লাব ক্রিকেটে ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে এমসিসি। বিভিন্ন কাঠ একত্র করে তৈরি এই ব্যাট তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ায় ব্যাটের খরচ কমানোর লক্ষ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কোন স্তরে এই টাইপ ডি ব্যাট ব্যবহার হবে, তা সংশ্লিষ্ট দেশের বোর্ড নির্ধারণ করবে।
হিট উইকেট আউটের সংজ্ঞাও আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ব্যাটার বল খেলার পর ভারসাম্য হারিয়ে কিছুক্ষণ পরে স্টাম্পে পড়ে গেলেও তা হিট উইকেট হিসেবে গণ্য হবে। তবে ভারসাম্য ফেরাতে গিয়ে কোনো ফিল্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে স্টাম্পে পড়লে আউট হবেন না।
এছাড়া ব্যাট হাত থেকে ছুটে সরাসরি স্টাম্পে লাগলে ব্যাটার আউট হবেন। তবে ব্যাট আগে উইকেটকিপার বা অন্য খেলোয়াড়কে স্পর্শ করে পরে স্টাম্পে লাগলে সেটি আউট হিসেবে গণ্য হবে না।
ওভারথ্রো ও মিসফিল্ডের মধ্যেও নতুন করে পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্টাম্প লক্ষ্য করে ছোড়া বল ওভারথ্রো হিসেবে ধরা হবে, আর শুধু বল থামানোর চেষ্টা মিসফিল্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।
ডেড বল আইনেও পরিবর্তন এসেছে। এখন আর বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বল ফিল্ডারের হাতে বা মাঠে স্থির থাকলেও আম্পায়ার প্রয়োজনে ডেড বল ঘোষণা করতে পারবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের শেষ ইনিংসে কোনো অধিনায়ক আর ইনিংস ঘোষণা দিতে পারবেন না।
এমসিসির আইন ব্যবস্থাপক ফ্রেজার স্টুয়ার্ট বলেন, ১৭৮৭ সাল থেকে ক্রিকেটের আইন পরিচালিত হয়ে আসছে এবং তাদের লক্ষ্য হলো আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন তৈরি করা।
নতুন আইন কার্যকরের আগে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির বৈঠকে এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এগুলো প্লেয়িং কন্ডিশনে যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আইসিসি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে এই আইন প্রয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের বোর্ডের ওপর নির্ভর করবে।
ক্রিকেটের আইন বদল মানেই শুধু নিয়মের পরিবর্তন নয়, বরং খেলাটাকে আরও ন্যায্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর করে তোলার নতুন পথচলা।