পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দ দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনার ১০ বছর, টিউলিপের ৪ বছর ও ববির ৭ বছরের কারাদণ্ড
পূর্বাচল নতুন শহর আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোনের মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক এবং বোনের ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। আদালতের রায়ে শেখ হাসিনাকে ১০ বছর, টিউলিপ সিদ্দিককে ৪ বছর এবং রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুদকের করা মামলায় ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলাটিতে মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজউকের একাধিক সাবেক দায়িত্বশীল ব্যক্তি রয়েছেন।
মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর ইঞ্জিনিয়ার সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত, সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন। দুদক দাবি করেছে, এই বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই মামলার রায় ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গন এবং প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন রায় দেশের দুর্নীতি দমন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যবহার যখন ব্যক্তিগত সুবিধার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন বিচার ও জবাবদিহিতাই মানুষের কাছে ন্যায়ের সবচেয়ে বড় আশ্বাস হয়ে ওঠে।