ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই
একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
সুকুমার বড়ুয়ার কন্যা অঞ্জনা বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তার বাবা। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সম্প্রতি তার ফুসফুসে পানি জমে যায় এবং সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর সুকুমার বড়ুয়ার ডান পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন। ষাটের দশকে মাত্র ছয় টাকায় তোপখানা রোডে একটি বেড়ার ঘর ভাড়া নিয়ে স্বাধীনভাবে লেখালেখি শুরু করেন তিনি।
কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলসহ শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন জনপ্রিয় সাহিত্য পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে তার লেখা। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।
প্রায় ছয় দশক ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে ছড়া রচনার মাধ্যমে বাংলা শিশুসাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখেন সুকুমার বড়ুয়া। ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক ও নৈতিক শিক্ষামূলক ছড়ার পাশাপাশি তার লেখায় উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা। এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়াসম্রাট’সহ নানা অভিধায় ভূষিত হন।
তার উল্লেখযোগ্য ছড়াগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাট, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াসম্ভার (দুই খণ্ড), যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা এবং জীবনের ভেতরে বাইরে।
বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।