গুমের বিচার জাতিসত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ, প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, গুমের বিচার জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, এ ধরনের অপরাধের বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে গুমের সংস্কৃতি আবার ফিরে আসতে পারে।
সোমবার দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার জেআইসিতে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলায় সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে গুম একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল এবং এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ব্যবহার করা হলেও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, গুমের সংস্কৃতি বন্ধে বিচার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, যারা দেশের স্বাধীনতা, বৈষম্যহীন সমাজ বা বাকস্বাধীনতার জন্য নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের স্মৃতি ও ন্যায়বিচারের স্বার্থেও মামলাটির বিচার জরুরি। তিনি জানান, সূচনা বক্তব্যে ট্রাইব্যুনালকে এই বিষয়গুলো মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আরও বলেন, গোপন বন্দিশালায় বন্দিদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে এবং এর বাইরে আরও বহু মানুষ নিখোঁজ আছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী জবানবন্দি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে বের করে আনার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কেউ যত বড় পদে থাকুক বা ইউনিফর্মধারী হোক, অপরাধ করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
সাক্ষ্যের বিবরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিনের সাক্ষ্যে কীভাবে কাউকে তুলে নেওয়া হতো, প্রথমে অস্বীকার করা হতো, এবং কী ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে সে বিষয়ে বর্ণনা এসেছে। তিনি জানান, গোপন বন্দিশালায় খাবার, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন পরিস্থিতি সম্পর্কেও সাক্ষী বক্তব্য দিয়েছেন।