জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আর থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জোটে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আলোচনায় দলটির পক্ষ থেকে কমপক্ষে ৮০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এই দাবিতে অনড় থাকায় জোটের অন্য শরিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়ে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো পৃথকভাবে বৈঠক করে। বৈঠকের পর খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক আসন বণ্টন নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন এবং চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে তাঁর এই উদ্যোগ সফল হয়নি। পরে তিনি গভীর রাতে জামায়াতের একজন শীর্ষ নেতাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করেন।
জোটের একাধিক শরিক দল এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে বর্তমান শর্তে তাদের পক্ষে জোটে থাকা সম্ভব নয়। তবে ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকলেও বাকি সব দল জোটে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে পরিণত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, জোটের শীর্ষ নেতারা আজ দুপুরের মধ্যে বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকের পর আগের দিন স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
খেলাফত মজলিসের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। নতুন করে কিছু আসনে বিন্যাস হতে পারে, তবে এতে জোটের মধ্যে কোনো সংকট তৈরি হবে না বলেও তিনি জানান।
জোট সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসন নিয়ে চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপির জোটে অন্তর্ভুক্তিকে দলটি স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। এরপর ইসলামী আন্দোলন দাবি করে, তাদের অন্তত ১৪৩টি আসনে বিজয়ী হওয়ার মতো সাংগঠনিক সমর্থন রয়েছে এবং তারা এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসনও দাবি করে।
প্রাথমিকভাবে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে তা বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয় এবং অতিরিক্ত ৬ থেকে ৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৮০টি আসনের দাবিতে অনড় থাকে। জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো চরমোনাই পীরকে অবস্থান পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও তাতে ফল আসেনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৮০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ তাদের ছিল না। এতে সম্ভাবনাময় আসন হারানোর পাশাপাশি অন্য শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও অতিরিক্ত আসনের দাবি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে দলটিকে ২৬৬টি আসনে এককভাবে অংশ নিতে হবে বলে জানা গেছে।