রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল, সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। শুক্রবার, ৭ আগস্ট, বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের বরাতে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে দলটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
দলীয় সূত্রগুলোর মতে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে একজন অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য ও সক্রিয় রাজনীতিবিদকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করেছে এবং সেখানে মির্জা ফখরুলের নামই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিএনপি নেতাদের একাংশ মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দল পরিচালনায় ভূমিকা এবং জাতীয় রাজনীতিতে গ্রহণযোগ্যতার কারণে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদের শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপি যখন দমন, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি ছিল, তখন খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের সময় দেশের রাজনৈতিক মাঠে দলকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে দলীয় নেতাদের মূল্যায়ন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দল ও জাতীয় রাজনীতিতে তার যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, তার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও বিএনপিতে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে।
দলীয় নেতাদের মতে, সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটে এ পদের গুরুত্ব বেড়ে যায়। জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসায় রাষ্ট্রপতির ভূমিকার গুরুত্ব বিবেচনা করেও দলের ভেতর থেকে একজন সক্রিয় রাজনীতিবিদকে এ পদে আনার আলোচনা চলছে।
মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডক্টর আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে।
তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করা নিয়ে বিএনপির ভেতরে ভিন্নমতও রয়েছে। একাংশ দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে। অন্য অংশ মনে করে, সরকার ও দল পরিচালনায় তার মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় উপস্থিতি এখনো প্রয়োজন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মূল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছে।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী এখনো নির্ধারিত হয়নি। দলীয় সূত্রগুলোর মতে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে এবং তার সিদ্ধান্তের পরই প্রার্থীর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।