আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ইসলামপন্থী জোট, চাপে জামায়াত
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় ইসলামপন্থী সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। জামায়াতে ইসলামীর সমন্বয়মূলক ভূমিকায় গড়ে ওঠা এই জোটকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ও মতভেদ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থানকে কেন্দ্র করে সমঝোতা প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
জানা গেছে, আসন বণ্টন নিয়ে একমত না হওয়ায় নির্ধারিত সময়েও চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বুধবার বিকেলে আসন সমঝোতা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও গুঞ্জন বাড়ে। কোনো কোনো মহলে ইসলামী আন্দোলনের জোট ছাড়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে, যদিও পরবর্তীতে দলটির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
১১ দলীয় সমঝোতায় ইতোমধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হলেও ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতার নিরসন হয়নি। অন্য কয়েকটি ইসলামি দল, যেমন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলো, কিছু বিষয়ে আপস করলেও জোট টিকিয়ে রাখার পক্ষে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
তবে ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে পুরো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আসন বণ্টনে অতিরিক্ত ছাড় দিলে জামায়াতকে নিজেদের শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের আসন ছাড়তে হতে পারে, যা দলটির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সমালোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার দলগুলোর মধ্যে একক প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে কয়েকটি দল যুক্ত হয়ে এই জোট ১১ দলে রূপ নেয়। সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় অনেক দলই অতিরিক্ত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে আলোচনার স্বার্থে জামায়াত কিছু আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি।
আলোচনার একপর্যায়ে ইসলামী আন্দোলনকে প্রথমে ৩১টি আসন প্রস্তাব দেওয়া হয়, পরে তা বাড়িয়ে ৪৫টি পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবুও দলটি সন্তুষ্ট না হয়ে ভিন্ন পথের ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টি নিয়ে দলটির অভ্যন্তরীণ বৈঠক ও শীর্ষপর্যায়ের আলোচনায়ও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের কৌশল ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান শিগগিরই স্পষ্ট করবে। দলটির নেতারা বলেছেন, তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে গুরুত্ব দেন এবং কোনো চাপের রাজনীতি মেনে নেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামপন্থী দলগুলোর এই সমঝোতা প্রক্রিয়া সফল হলে তা নির্বাচনি সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মতভেদ ও আস্থার ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক আলোচনার ওপর।