স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনা সরকারের
দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার ১২ মে রাজধানীর বনানীতে বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথরেখা শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ছাড়া দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, দেশের ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হয়েছে। একসময় এই প্রবৃদ্ধি ১১ থেকে ১২ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে তা ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজস্ব কাঠামো আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে।
প্রবাসী আয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের রেমিট্যান্সের বড় অংশ অদক্ষ শ্রমিকদের কাছ থেকে আসে। শ্রমশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে পারলে রেমিট্যান্স আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি নেওয়া সম্ভব হবে।
দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্টিফিকেশনের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে তরুণদের জন্য স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।