ইরান ইস্যুতে চাপে নেতানিয়াহু, ট্রাম্পের কূটনৈতিক পথে বাড়ছে অস্বস্তি
ইরানের সঙ্গে চলমান সমঝোতা প্রচেষ্টাকে ঘিরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপে পড়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক পথের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় ইসরাইলের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শুক্রবার (৩০ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে পরিচালিত যৌথ সামরিক অভিযানের সময় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু নিজেদের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় দুই দেশের সম্পর্ককে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঘনিষ্ঠ বলে মন্তব্য করেছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
তবে কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে নেতানিয়াহু উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং আলোচনার ফলাফলের ওপর ইসরাইলের প্রভাব সীমিত বলেও স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরাইলি সূত্রগুলোর মতে, সম্ভাব্য কোনো সমঝোতায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পুরোপুরি সমাধান নাও হতে পারে। একই সঙ্গে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সমঝোতা যদি বাস্তবিক অর্থে পারমাণবিক ঝুঁকি কমাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা ভবিষ্যতে নতুন উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, আলোচনায় অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন সামরিক বিকল্পের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশটির সরকার আরও শক্তিশালী অবস্থানে চলে যাবে।
এদিকে আলোচনায় লেবানন ইস্যুও গুরুত্ব পাচ্ছে। জানা গেছে, ইরান সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নেতানিয়াহু চাপের মুখে রয়েছেন। তার জোটের কট্টরপন্থী অংশ আরও কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষে মত দিচ্ছে। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা তার জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে ইরান প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের কারণে নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে এমন একটি সমঝোতার বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা তার দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে ইসরাইলের একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক মনে করেন ইরানকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। একই সঙ্গে অনেকের মধ্যে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান ইস্যুর চূড়ান্ত ফলাফল শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেই নয়, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।