হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী ট্রানজিট ফি আরোপের বিরোধিতা কাতারের
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর স্থায়ী ট্রানজিট ফি আরোপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে কাতার। দেশটির মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর হলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের ওপরই এসে পড়বে।
শনিবার (৩১ মে) সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শাংরি লা ডায়ালগ নিরাপত্তা সম্মেলনে কাতারের উপ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুল রহমান আল থানি এ অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, কাতার এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি টোল বা স্থায়ী ফি আরোপের পক্ষে নয়। তাদের মতে, জাহাজ চলাচলে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হলে তার প্রভাব পণ্য ও জ্বালানির দামের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়ে।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য কোনো ফি আরোপের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মাইন অপসারণ বা বিশেষ সামুদ্রিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন দেখা দিলে সাময়িক ও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ফি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় আনা যেতে পারে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। এ অবস্থায় কাতারের অবস্থান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এ নৌপথে নতুন কোনো স্থায়ী ফি বা বিধিনিষেধ চালু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, পণ্য পরিবহন ব্যয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
এ কারণে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে গৃহীত যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।