ইব্রাহিমি মসজিদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এর ফলে শুক্রবার (২৯ মে) জুমার নামাজ আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি মুসল্লিরা।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনারা মসজিদের ভেতরে অবস্থানরত মুসল্লি, নিরাপত্তারক্ষী, কর্মচারী ও তত্ত্বাবধায়কদের দ্রুত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেয়। পরে পুরো মসজিদ এলাকা সিলগালা করা হয় এবং আশপাশের সব প্রবেশপথ, চেকপয়েন্ট ও গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এটি ইব্রাহিমি মসজিদের বিদ্যমান ধর্মীয় ও প্রশাসনিক অবস্থান পরিবর্তনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। মন্ত্রণালয়ের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং উদ্বেগজনক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হেবরনের পুরোনো শহর এলাকায় ফিলিস্তিনিদের চলাচল ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকায় ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মে ঈদুল আজহার নামাজও কঠোর নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় ইসরাইলি বাহিনী মসজিদের বিভিন্ন ফটক বন্ধ রাখে এবং প্রবেশপথে মুসল্লিদের তল্লাশি চালায়। এতে অনেক মুসল্লি সময়মতো মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে অন্যত্র নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন।
ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত, যা সম্পূর্ণ ইসরাইলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় পড়ে। সেখানে প্রায় ৪০০ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর নিরাপত্তায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে এক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর হামলায় ইব্রাহিমি মসজিদে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হন। ওই ঘটনার পর মসজিদ প্রাঙ্গণকে দুই অংশে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ অংশ ইহুদিদের এবং ৩৭ শতাংশ অংশ মুসলমানদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা হয়।