এশিয়াজুড়ে সার্কুলার ইকোনমি এগিয়ে নিতে ঢাকায় যাত্রা শুরু সাচিনের
এশিয়াজুড়ে বৃত্তাকার অর্থনীতি ও টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে গবেষণা ও নীতি-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক সাচিন।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিআই কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। অনুষ্ঠানে গবেষক, শিল্প উদ্যোক্তা, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
সাচিনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, এশিয়ার টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গবেষণা, উদ্ভাবন, নীতিগত সহায়তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করবে সংস্থাটি। তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সূচনা নয়, বরং নতুন চিন্তা ও দায়িত্ববোধেরও শুরু।
সংস্থাটির স্লোগান থিংক সার্কুলার ইনোভেট রিজিওনালি ইমপ্যাক্ট গ্লোবালি। এর মাধ্যমে এমন একটি এশিয়া গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা সার্কুলার ইকোনমি ও টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম শুরু করলেও পর্যায়ক্রমে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, জ্বালানি, প্লাস্টিক, আর্থিক খাত, পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানায় সাচিন।
অনুষ্ঠানে ইউরোচ্যাম বাংলাদেশের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, সার্কুলার ইকোনমিকে কেবল আন্তর্জাতিক চাপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রচলিত উৎপাদন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারে এবং সবুজ বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ বাড়াতে পারে।
প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক মডেলে প্রকৃতি থেকে সম্পদ সংগ্রহ, ব্যবহার এবং পরে তা ফেলে দেওয়ার যে ধারা রয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তিনি সম্পদের পুনঃব্যবহার, বর্জ্য হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে শিল্পোন্নয়নের ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। পানি ও বায়ুদূষণের প্রভাব মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং টেকসই উন্নয়ন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
সাচিন জানিয়েছে, তারা মূলত গবেষণা ও উন্নয়ন, নীতিগত সহায়তা, নেটওয়ার্কিং ও সহযোগিতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির চারটি ক্ষেত্রে কাজ করবে। পাশাপাশি এশিয়ান সাসটেইনেবিলিটি ডেটা অ্যান্ড এআই পোর্টাল, সার্কুলার টেকনোলজি মার্কেটপ্লেস, সাচিন একাডেমি এবং সার্কুলার সলিউশনস ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্মসহ বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এসডিজি ১২, ১৩ ও ১৭ এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে সরকার, শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সহযোগী ও তরুণ সমাজকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।