পাঁচ বছরে সৌরশক্তি থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আগামী পাঁচ বছরে সৌরশক্তি থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার ১২ মে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইইবির ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা কেন্দ্র এই সেমিনারের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকেই সৌরশক্তির উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ খাতকে আমদানি নির্ভর করে রাখার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, অতীতের নীতিগত দুর্বলতার কারণে এই খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বের সময়ে ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের শর্ত থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভবনের ছাদে বাণিজ্যিকভাবে সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা হলে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়বে।
সৌর প্রকল্পে কর সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুরুতে কর ছাড় দিলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। একই সঙ্গে যেসব বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহৃত হবে, সেখানে হোল্ডিং ট্যাক্সে ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারি খালি জমিতেও সৌর প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। রেলওয়ে, সড়ক বিভাগ ও খাস জমি ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান খান। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান প্রায় ৫ শতাংশ হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৩০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রবন্ধে জমি সংকট, উচ্চ আমদানি শুল্ক ও অনুমোদন জটিলতাকে সৌরবিদ্যুৎ খাতের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি কৃষিজমির সঙ্গে সৌর প্রকল্পের সমন্বয়, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, স্মার্ট গ্রিড ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে আইইবির নেতৃবৃন্দ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।