একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য, সংসদে শফিকুর রহমানের বক্তব্য
জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট একটি বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান একাত্তরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন এবং ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বাস্তবতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সত্যের সাক্ষী একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, আর মানুষ কেবল আংশিকভাবে সে সময়ের ঘটনা জানে। বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনী বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সংশোধিত আইনে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত সংগঠনগুলোর তালিকা বহাল রাখা হয়, যা পরবর্তীতে সংসদে পাস হয়।
আলোচনায় শফিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ভূখণ্ড দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং দ্বিতীয়বারের স্বাধীনতা এসেছে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে।
স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, সে সময় প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচারভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র গঠন, তবে বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটেছিল বলে তার পর্যবেক্ষণ। একইসঙ্গে তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিলের আলোচনায় দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেননি। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।