যেভাবে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে এলেন তারেক রহমান
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার রাতে দলের গুলশান কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ১০টার পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ইতিমধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং নতুন দায়িত্ব পালনে তাঁর সাফল্য কামনা করেছে।
জাতীয় স্থায়ী কমিটির ওই বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান এখন আর ভারপ্রাপ্ত পদবিতে নেই। গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে দলের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করবেন।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৮৮ সালে। সে বছর তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন এবং ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন এবং কারাবাস শেষে ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। পরবর্তী সময়ে তিনি লন্ডনে অবস্থান করেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে তাঁকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরেন। এ উপলক্ষে ঢাকার পূর্বাচলে তাঁকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি সমাবেশে বক্তব্য দেন এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করবে।