শিরোপায় চোখ ভারত ও নিউজিল্যান্ডের
বিশ দল নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। গ্রুপ পর্ব, সুপার এইট ও সেমিফাইনালের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত শিরোপার দৌড়ে টিকে আছে দুই দল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনালে স্বাগতিক ভারত মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের।
ফাইনালের পথে ভারত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে জায়গা করে নেয় শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। টুর্নামেন্টজুড়ে দুই দলই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে।
গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে ২৯ রানে হারিয়ে যাত্রা শুরু করে ভারত। এরপর নামিবিয়াকে ৯৩ রানে, পাকিস্তানকে ৬১ রানে এবং নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে হারিয়ে সুপার এইটে ওঠে সূর্যকুমার যাদবের দল। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানে হারলেও জিম্বাবুয়েকে ৭২ রানে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তারা। শেষ চারে ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে ভারত।
অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টে শক্তিশালী ও সংগঠিত দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তানকে ৫ উইকেটে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১০ উইকেটে এবং কানাডাকে ৮ উইকেটে হারায় কিউইরা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এক ম্যাচে হারলেও তারা সুপার এইটে জায়গা করে নেয়। সেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও শ্রীলঙ্কাকে ৬১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। সেমিফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে নিউজিল্যান্ড।
ফাইনালের আগে কাগজে কলমে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে ভারতকে। শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ, সাঞ্জু স্যামসনের ফর্ম এবং বোলিং আক্রমণের ভারসাম্য দলটিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
তবে নিউজিল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বড় ম্যাচে পরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্রিকেট খেলার জন্য পরিচিত কিউইরা। ওপেনিং জুটি দ্রুত রান তুলতে পারলে এবং অলরাউন্ডাররা ভূমিকা রাখলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে যেকোনো সময়।
সব মিলিয়ে ফাইনালটি হতে যাচ্ছে দুই ভিন্ন ধরনের শক্তির লড়াই। ভারতের আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্স। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে ২০২৬ সালের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা।