এসিল্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভুয়া মোবাইল কোর্ট, গ্রেফতার ২
মানিকগঞ্জের সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে জরিমানার নামে আদায় করা এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার ধামরাই উপজেলার বালিথা গ্রামের বাসিন্দা রতন মিয়ার ছেলে মো. মানোয়ার হোসেন এবং বাথুলী গ্রামের শামছুল হকের ছেলে মো. আরশেদ আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানোয়ার হোসেন, আরশেদ আলী এবং জিয়াউল নামে আরও এক ব্যক্তি নিজেদের ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সোনাতলা এলাকায় যান। তারা অবৈধভাবে মাটি কাটা ও ভেকু পরিচালনার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ সময় তারা এসিল্যান্ডের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নিজেদের ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেয়।
এ সময় প্রতারক চক্রের সদস্য জিয়াউল স্থানীয় ভেকু ব্যবসায়ী চান মিয়াকে ফোন করে জানায় যে ধামরাই এলাকার এসিল্যান্ড মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে একটি ভেকু জব্দ করা হয়েছে। তারা দুই লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে বলে দাবি করে। পরে চান মিয়া জরিমানার এক লাখ টাকা তাদের হাতে দেন এবং বাকি টাকা সকালে দেওয়ার কথা বলেন।
পরবর্তীতে একই কৌশলে তারা স্থানীয় আরেক ভেকু ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগ করে। এ সময় চান মিয়া জরিমানার রশিদ চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাদের পরিচয় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন এবং ঘটনাস্থলে আরও লোকজন জড়ো হন।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে প্রতারক চক্রের সদস্য জিয়াউল কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা মানোয়ার হোসেন ও আরশেদ আলীকে আটক করে রাখেন এবং বিষয়টি মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশকে জানান।
পরে সদর থানার একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করে এবং তাদের কাছ থেকে জরিমানার নামে আদায় করা এক লাখ টাকা উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, জিয়াউল নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে তারা ধামরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমির গাড়ি ব্যবহার করে টাকা সংগ্রহ করতে এসেছিলেন। তাদের দাবি, জিয়াউল উপজেলা প্রশাসনের একজন গাড়িচালক।
মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে ধামরাই উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পায়।