শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হবে, জানালেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর
জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে বুধবার ৪ মার্চ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা অবগত আছেন। যেহেতু তিনি একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সম্পন্ন হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে আগের উদ্যোগের অগ্রগতি কতদূর হয়েছে জানতে চাইলে মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ওই সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। একই মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পর তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া গুম ও হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও কয়েকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি জটিল ও সময়সাপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পদক্ষেপ নিতে হয়। আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।