ওসমানীনগরে মাছ উত্তোলন ও টমেটো গাছ কাটা নিয়ে উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের বড় ইসবপুর গ্রামে পুকুরের মাছ উত্তোলন এবং টমেটো গাছ কাটার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে।
অভিযোগকারী আংগুর আলী ৪৪ জানান, একই গ্রামের সুমন মিয়ার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও শরিকানা পুকুরসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে তিনি প্রতি পোনা ৫০ টাকা দরে প্রায় এক হাজার পাঙ্গাস মাছ পুকুরে অবমুক্ত করেন। তার অভিযোগ, গত ২৮ জানুয়ারি রাতে সুমন মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি মেশিন ব্যবহার করে আনুমানিক এক লাখ টাকার মাছ তুলে নিয়ে যান।
আংগুর আলীর দাবি, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তার বসতবাড়িতে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে তিনি ওসমানীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ দায়েরের পর বাড়ি ফেরার সময়ও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানান।
এদিকে স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সুমন মিয়ার ২৪ শতাংশ জমিতে রোপণ করা প্রায় ১৭০০ টমেটো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে ক্ষতির পরিমাণ ১৮০০ গাছ উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আংগুর আলী। তার ভাষ্য, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে এবং তাকে জড়াতে পরিকল্পিতভাবে কিছু গাছ কেটে ঘটনা সাজানো হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলমান থাকলেও প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে নতুনভাবে তাকে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তিনি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।