চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ে মুগ্ধ কোচ বাটলার, বাংলাদেশের উন্নতিতে দেখছেন নতুন বার্তা
এশিয়ান কাপে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের সাহসী লড়াই কোচ পিটার বাটলারকে আশাবাদী করেছে।
মঙ্গলবার ম্যাচশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ফলাফল চীনের পক্ষে গেলেও পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের শক্ত বার্তা দিয়েছে।
নয়বারের এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান শিরোপাধারী চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু হওয়ার আগে অনেকেই একপেশে ফলের আশঙ্কা করেছিলেন। তবে বাংলাদেশ দল শুরু থেকেই লড়াকু মনোভাব দেখায়। বাটলার জানান, ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে এবং সেরাটা উজাড় করে দিতে। তার ভাষায়, দল কোনো সময় হাল ছাড়েনি।
তিনি বলেন, প্রায় চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত চীনকে আটকে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। এরপর কিছু সময়ের জন্য মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হয়, যার ফলে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দলের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় তিনি সন্তুষ্ট। বাটলারের মতে, এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ নারী দল ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মানসিকতা অর্জন করেছে।
গোলরক্ষক নির্বাচনে পরিবর্তন নিয়েও ব্যাখ্যা দেন কোচ। নিয়মিত গোলরক্ষক রুপনা চাকমার পরিবর্তে মিলি আক্তারকে মাঠে নামানো হয়। বাটলার জানান, দলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ধরে রাখাই তার লক্ষ্য। মিলি কিছু ভুল করলেও সামগ্রিকভাবে ভালো খেলেছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, নতুনত্ব আনার জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি পিছপা হন না।
আগামী ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সামনে আরেকটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। তবে কোচের বিশ্বাস, স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসী খেলায় অবিচল থাকলে দল ভালো ফল করতে সক্ষম।
শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইয়ে যে আত্মবিশ্বাসের ঝলক দেখা গেছে, তা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত। পরাজয়ের মধ্যেও যে সম্ভাবনার আলো জ্বলে ওঠে, সেটিই বড় দলের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ।