বুধবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সাম্প্রতিক
আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ★ মাছের ঘের উচ্ছেদ ঘিরে লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, অস্বীকার যুবদল নেতার ★ জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের সুযোগ ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ★ আজকের পূর্ণিমার চাঁদ ‘হান্টার্স মুন’ জানুন নামকরণের ইতিহাস ★ ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর ★ জৈন্তাপুরের ইউএনও পদে রদবদল, দায়িত্বে আসছেন আবুল হাসনাত খাঁন ★ ভিত্তিহীন সংবাদের ভয়ে নয়, সততা ও সাহসিকতায় এগিয়ে চলুক প্রশাসন ★ জমি কেনার আগে জাল দলিল শনাক্তে যে ৯টি বিষয় যাচাই করবেন ★ বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে সরানো হলো আশরাফুলকে ★ টানা পাঁচ দিনের ছুটি শেষে খুলল অফিস, আদালত ও ব্যাংক ★ ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন রাষ্ট্রপতি ★ বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত ★ স্পেন ও যুক্তরাজ্যে সরকারি সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ★ এনসিপির জাতীয় নারীশক্তির নতুন আহ্বায়ক মাহমুদা মিতু ★ তিন দিন বন্ধ থাকার পর সচল বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ★ ছয় কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাবে সরকারের অনুমোদন ★ সিলেট সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে ৪৮ বিজিবির জোরালো অভিযান, ২৪ লাখ টাকার বেশি মালামাল জব্দ ★ জাতীয় নেতৃত্বে সিলেটের তিন কৃতী সন্তান, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন প্রত্যাশা ★ জাতীয় নেতৃত্বে সিলেটের তিন কৃতী সন্তান, উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন প্রত্যাশা ★ সাত জটিল রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার ★ সিলেট সীমান্তে ১৯ বিজিবির বড় অভিযান, ভারতীয় সিগারেট-মহিষসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ ★ ২২ নভেম্বর লন্ডনে দ্বিতীয় ইউকে বিজনেস এক্সপো অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস, উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের আহ্বান ★ যুক্তরাজ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নেবট্রার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ★ গোয়াইনঘাটে সালুটিকর পুলিশের বড় অভিযান, ২৩ লাখ টাকার ভারতীয় বিস্কিট ও ট্রাক জব্দ, আটক ১ ★ অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তায় প্রশংসনীয় ভূমিকা কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ★
হোম › ধর্ম › সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাকাতের প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগের গুরুত্ব

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাকাতের প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগের গুরুত্ব

icon
দর্পণ টিভি লন্ডন
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাকাতের প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগের গুরুত্ব

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এমন একটি কাঠামো যার মাধ্যমে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষকে সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়া হয়। আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রে এটি সামাজিক নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও এর শিকড় বহু প্রাচীন। মানবিকতা, দানশীলতা ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণার ভিত্তিতে প্রাচীন মিসর, গ্রিস, রোম, চীন ও ভারতেও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার প্রচলন ছিল।

ইসলামি ইতিহাসে ৬২২ সালে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা. ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে যে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন, তা সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। খোলাফায়ে রাশেদিনের সময়েও এ ব্যবস্থা সুসংগঠিত রূপে পরিচালিত হয়ে দীর্ঘদিন মানবকল্যাণে ভূমিকা রাখে।

ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব আজও বৈশ্বিক বাস্তবতা। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে ইসলাম সম্পদ বণ্টনের একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রণয়ন করেছে। যাতে সম্পদ কেবল বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সে লক্ষ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ করা হয়েছে। নিসাব পরিমাণ সম্পদের ওপর ৪০ ভাগের এক ভাগ জাকাত আদায়ের বিধান রয়েছে, যা দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষের অধিকার হিসেবে নির্ধারিত। পবিত্র কোরআনে সম্পদ বণ্টনের মূলনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, যেন ঐশ্বর্য শুধু ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়।

জাকাতের অর্থ সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সুষম বণ্টন হলে সমাজের ঋণগ্রস্ত, অনাথ, বিধবা, বৃদ্ধ, অসুস্থ ও অক্ষম মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত সহায়তা নয়, সামগ্রিক আয়বণ্টনে ভারসাম্য সৃষ্টি সম্ভব। কোরআনে উল্লেখ রয়েছে যে ধনসম্পদে অভাবী ও বঞ্চিত মানুষের নির্ধারিত অধিকার রয়েছে।

ইসলামি শরিয়তে জাকাতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থসামাজিক বিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোরআনে নামাজের নির্দেশের পাশাপাশি বহু স্থানে জাকাত আদায়ের কথাও এসেছে। বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে এর বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। স্বর্ণ-রুপা, সঞ্চিত অর্থ, ব্যবসায়িক পণ্য, গৃহপালিত পশু, খনিজ সম্পদ এবং জমিতে উৎপাদিত ফসলের ওপর জাকাত আরোপ করা হয়েছে। কৃষিজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে উশর নামে আলাদা বিধান রয়েছে।

ইতিহাসে দেখা যায়, খলিফা আবু বকর রা. জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। এতে বোঝা যায়, জাকাত শুধু ধর্মীয় আচার নয়; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়ের অংশ।

তবে বাস্তবতায় দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে জাকাত দান ব্যক্তিগত ও খণ্ডিত পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ থাকায় এর কাঙ্ক্ষিত সামাজিক প্রভাব তৈরি হচ্ছে না। দরিদ্র মানুষের স্থায়ী উন্নয়নের পরিবর্তে কখনও তা সাময়িক সহায়তায় সীমাবদ্ধ থাকে। জাকাতের মূল লক্ষ্য হলো গ্রহীতাকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, যাতে সে ভবিষ্যতে দাতার পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকল্পিতভাবে জাকাত সংগ্রহ ও বণ্টন করা গেলে এটি একটি কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে। রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে জাকাত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়বদ্ধতা। জাকাতের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সেই নৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারে। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সম্পদের সুষম বণ্টন যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা। জাকাত যদি কেবল দান নয়, সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, তবে তা দারিদ্র্যমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনের শক্ত ভিত হয়ে উঠতে পারে।