জুমার দিনে দরূদ পাঠ, যে আমল সরাসরি পৌঁছে যায় নবিজীর দরবারে
সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমাকে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ দিনের তাৎপর্য শুধু জামাতে নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রয়েছে বিশেষ কিছু আমলের গুরুত্ব, যার অন্যতম হলো নবির প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা।
শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ইসলামী আলোচনায় এ বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়, যেখানে হাদিস ও কোরআনের আলোকে জুমার দিনের বিশেষ আমল হিসেবে দরূদ পাঠের ফজিলত তুলে ধরা হয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন যে তিনি নিজে এবং তাঁর ফেরেশতারা নবির প্রতি সালাত প্রেরণ করেন এবং মুমিনদেরও নবির প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, এই আয়াত থেকেই দরূদের মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
হাদিসে বর্ণিত আছে, শুক্রবার এমন এক দিন যেদিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই কিয়ামতের সূচনা হবে এবং সৃষ্টিজগতের অবসান ঘটবে। তাই এই দিনের বিশেষত্ব বিবেচনায় নবিজী উম্মতকে তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করতে উৎসাহিত করেছেন।
এক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, জুমার দিনে পাঠ করা দরূদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে উপস্থাপন করা হয়। সাহাবায়ে কেরামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা নবিদের দেহ মাটির জন্য হারাম করেছেন, ফলে উম্মতের সালাম ও দরূদ তাঁর নিকট পৌঁছায়।
আরেক হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে, যার সামনে নবির নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে দরূদ পাঠ করল না, সে কৃপণতার পরিচয় দিল। একইভাবে এমন মজলিসের ব্যাপারেও সতর্কবার্তা এসেছে, যেখানে আল্লাহর স্মরণ ও নবির প্রতি দরূদ অনুপস্থিত থাকে।
ইসলামী গবেষকদের মতে, জুমার দিনকে কেন্দ্র করে দরূদের চর্চা শুধু একটি আমল নয়, বরং ঈমানের পরিপূর্ণতার প্রকাশ। এটি নবিপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য মাধ্যম।
সপ্তাহের সেরা দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠের আহ্বান জানিয়ে আলেমরা বলেন, এ আমল মানুষকে আধ্যাত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ করে, হৃদয়ে প্রশান্তি আনে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ সুগম করে।
জুমা তাই কেবল একটি নামাজের দিন নয়, বরং আত্মসমালোচনা, ইবাদত ও নবিপ্রেমে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার মহামূল্যবান সুযোগ। এই দিনে উচ্চারিত প্রতিটি দরূদ যেন হয়ে ওঠে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের এক অনন্ত বন্ধন, যা আসমান পেরিয়ে পৌঁছে যায় প্রিয় নবির দরবারে।