সুনামগঞ্জ সদরে অপরাধ দমনে অনন্য সাফল্য: রতন শেখের নেতৃত্বে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে থানা পুলিশ
সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে গত ডিসেম্বর মাসজুড়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। ধারাবাহিক অভিযান, পেশাদার তদন্ত এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য ও মাদক উদ্ধার করে পুলিশ অপরাধ দমনে শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর ২০২৫) থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত পরিচালিত একাধিক অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, শাল চাদর, শেরওয়ানি, জামা, গরু, বিড়ি ও মাদক উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন।
পুলিশ জানায়, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি অভিযানে ৬০ পিস ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য এক লক্ষ আশি হাজার টাকা। এরপর ১৭ ডিসেম্বর আরেকটি অভিযানে ২৩ শত পিস ভারতীয় শাল চাদর, ১৩১ পিস শেরওয়ানি এবং ১০ পিস ভারতীয় জামা জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের মোট মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪৮ লক্ষ ২১ হাজার ৫শ টাকা।
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ৩১টি ভারতীয় গরু ও একটি বড় স্টিলের নৌকা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লক্ষ টাকা। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর প্রায় ৫ লক্ষ ৪ হাজার পিস ভারতীয় বিড়ি উদ্ধার করে পুলিশ, যার মূল্য ধরা হয় ৩৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৮শ টাকা। পাশাপাশি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আরও ২ লক্ষ ১০ হাজার পিস ভারতীয় বিড়ি এবং একটি ডিআইপি কাপ গাড়ি জব্দ করা হয়, যার মোট মূল্য ২৪ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা।
থানা পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, শুধু চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ডিসেম্বর মাসে সর্বমোট উদ্ধারকৃত মালামালের মূল্য দাঁড়িয়েছে এক কোটি ছাব্বিশ লক্ষ ছয় হাজার তিনশ টাকা।
এদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ৪১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য এক লক্ষ ২৩ হাজার টাকা। এছাড়া দুইটি পৃথক মামলায় ১২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়, যার মূল্য প্রায় ২৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত মোট মূল্য দাঁড়ায় এক লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখ পিপিএম জানান, চোরাচালান ও মাদক নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, আইন মেনে যারা জীবিকা নির্বাহ করছেন তাদের জন্য পুলিশ সবসময় সহায়ক, তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রতন শেখ যে থানায় দায়িত্ব নেন, সেখানে অপরাধীদের চোখে তিনি আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠেন। আর সাধারণ মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে। গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইন প্রয়োগে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তার প্রতি জনআস্থা দিন দিন বাড়ছে।
সব মিলিয়ে ডিসেম্বরজুড়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার কার্যক্রম প্রমাণ করেছে, সঠিক নেতৃত্ব, পেশাদার পুলিশিং ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে অপরাধ দমন সম্ভব। এই এক মাসের সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা ও আস্থার একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এমন দায়িত্বশীল ও সাহসী উদ্যোগই পারে সমাজকে আরও নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিতে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, থানার এই ধারাবাহিক সাফল্য ও কঠোর আইন প্রয়োগে ক্ষুব্ধ একটি কুচক্রী মহল অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রতন শেখের নামে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। দায়িত্বশীল মহলের মতে, এসব অপপ্রচার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের দৃঢ় অবস্থানকে দুর্বল করার অপচেষ্টা মাত্র। স্থানীয় সচেতন মহল এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে পুলিশের ইতিবাচক ও সাহসী ভূমিকার পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।