চতুর্থ তারাবি: আল্লাহর অবাধ্যতা আজাব ও অভিশাপ ডেকে আনে
আজ চতুর্থ তারাবির নামাজে কোরআন শরিফ থেকে সূরা নিসা আয়াত ৮৮ থেকে ১৪৬ এবং সূরা মায়িদার আয়াত ১ থেকে ৮২ পর্যন্ত তিলাওয়াত করা হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে পঞ্চম পারার দ্বিতীয়ার্ধ এবং পুরো ষষ্ঠ পারা। নিচে আজকের তারাবিতে পঠিতব্য অংশের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।
সূরা নিসা ৮৮-১৪৬
এ অংশে মোনাফিকদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত সম্পর্কে মুমিনদের সতর্ক করা হয়েছে। তাদের গোপন অপকর্ম ও প্রতারণা উন্মোচন করে কোরআনে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়েছে।
ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করার কঠোর শাস্তির কথাও এখানে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে জিহাদের গুরুত্ব ও মুজাহিদদের মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। মুসলিম উম্মাহর সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় আত্মত্যাগের চেতনা অপরিহার্য বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জিহাদের পাশাপাশি হিজরতের বিষয়ও এসেছে, যা ঈমান রক্ষার প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকারের এক বিশেষ দিক।
যারা জিহাদ ও হিজরতে অংশ নেয় না এবং আত্মপ্রবঞ্চনায় ভোগে তাদের জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে শারীরিক বা বাস্তব অক্ষমতার কারণে যারা অংশ নিতে অক্ষম, তাদের জন্য ছাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অংশে সফর ও যুদ্ধাবস্থায় নামাজ আদায়ের বিধান, সময়মতো নামাজ কায়েমের গুরুত্ব এবং খেয়ানতকারীদের পক্ষ না নেওয়ার নির্দেশও রয়েছে। কুফর ও শিরককে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে জানানো হয়েছে, এ অবস্থায় মৃত্যু হলে ক্ষমার সুযোগ নেই।
নারীদের অধিকার রক্ষা, তাদের ওপর জুলুম না করা এবং পারিবারিক বিবাদে সমঝোতার পথ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোনাফিকদের কঠোর পরিণতির কথাও পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইহুদিদের বিভিন্ন অবাধ্যতা ও অপরাধের বিবরণে বলা হয়েছে, তারা হজরত ঈসা আ.কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাকে রক্ষা করেছেন এবং সম্মানিত অবস্থায় উঠিয়ে নিয়েছেন। সূরার শেষাংশে নারীদের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সূরা মায়িদাহ ১-৮২
মদিনায় অবতীর্ণ এ সূরায় বৈধ অঙ্গীকার ও চুক্তি পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাহেলি যুগের কিছু খাদ্যাভ্যাসকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং হালাল হারামের বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে।
ইহুদিদের হঠকারিতা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও ফিতনা ফ্যাসাদের কথা উল্লেখ করে মুমিনদের সতর্ক করা হয়েছে। হজরত মুসা আ. তার কওমকে পবিত্র ভূমিতে প্রবেশের আহ্বান জানালেও তারা অবাধ্য আচরণ করেছিল বলে বর্ণনা রয়েছে।
এ অংশে হত্যার বিধান, তাওরাত ও ইঞ্জিল প্রাপ্তির পরও ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কিতাব অনুযায়ী আমল না করার সমালোচনা করা হয়েছে। এক আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ এবং ঈসা আ.কে আল্লাহর পুত্র মনে করার দাবির অসারতা তুলে ধরা হয়েছে।
ষষ্ঠ পারার শেষাংশে ইহুদি জাতির অভিশপ্ত হওয়ার কারণ হিসেবে আল্লাহর অবাধ্যতা, সীমালঙ্ঘন এবং অন্যায় কাজ থেকে পরস্পরকে বিরত না রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
আজকের তারাবির আলোচনায় মূল বার্তা হলো, আল্লাহর অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন অবশেষে আজাব ও অভিশাপ ডেকে আনে, আর আনুগত্য, ন্যায় ও তাকওয়াই মুক্তির পথ।