যেসব বৈদ্যুতিক যন্ত্র অজান্তেই বাড়িয়ে দেয় বিদ্যুৎ বিল
মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে অনেকেই বিস্মিত হন। দৈনন্দিন ব্যবহারে বড় কোনো পরিবর্তন না থাকলেও ঘরের কিছু সাধারণ বৈদ্যুতিক যন্ত্র নীরবে বাড়িয়ে দেয় খরচ। সচেতনতার অভাব ও অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এ ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যেমন এসি ও রুম হিটার সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। দরজা জানালায় ফাঁক থাকলে বা সরাসরি গরম বাতাস লাগে এমন স্থানে বসানো হলে যন্ত্র সঠিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারে না। ফলে নির্ধারিত তাপমাত্রা পেতে বেশি সময় চালু থাকে এবং বিল বাড়ে।
পুরোনো ফ্রিজও বিদ্যুৎ খরচের বড় কারণ। দীর্ঘদিন ব্যবহারে নিরোধক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায় এবং কম্প্রেসারের কার্যকারিতা কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ বছরের বেশি পুরোনো ফ্রিজ বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যয় করতে পারে। শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির নতুন ফ্রিজ ব্যবহার করলে এ খরচ কমানো সম্ভব।
অনেক যন্ত্র বন্ধ থাকলেও প্লাগে সংযুক্ত থাকলে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ টানতে থাকে, যাকে স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার বলা হয়। টেলিভিশন, গেমিং কনসোল, কম্পিউটার, মোবাইল চার্জার, কেবল বক্স, মাইক্রোওয়েভ ও কফি মেকারের মতো যন্ত্র এ তালিকায় রয়েছে। ব্যবহার না করলে সুইচ বন্ধ রাখা বা প্লাগ খুলে রাখা সাশ্রয়ের কার্যকর উপায়।
এসি বা বায়ু পরিশোধন যন্ত্রের ফিল্টারে ধুলো জমলে যন্ত্রকে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার বা সময়মতো পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
পানি গরম করার যন্ত্রও উচ্চ বিদ্যুৎ ব্যয়ের একটি উৎস। তাপমাত্রা বেশি নির্ধারণ করলে সেটি সারাক্ষণ সেই তাপমাত্রা ধরে রাখতে কাজ করে, ফলে খরচ বাড়ে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাপমাত্রা নির্ধারণ করলে বিল কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সচেতন ব্যবহার, শক্তি সাশ্রয়ী যন্ত্র নির্বাচন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে সহজেই বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ছোট ছোট অভ্যাসগত পরিবর্তনই মাস শেষে বড় সাশ্রয় এনে দিতে পারে।