বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে বেজার অধীনে পরিচালিত হবে
দেশে বিদ্যমান সব বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল এখন থেকে সরাসরি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। ২০২৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন ১৯৯৬ বাতিল করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে।
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ২০২৬ সালে বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার ফলে ১৯৯৬ সালের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সব বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন ২০১০ এর অধীনে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে। এসব অঞ্চলের পরিচালনা ও তদারকি কার্যক্রম বেজার ওপর ন্যস্ত থাকবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আগের আইনের অধীনে সম্পাদিত সব কার্যক্রম ও গৃহীত ব্যবস্থা নতুন অধ্যাদেশের আওতায় সংরক্ষিত থাকবে। একইসঙ্গে পূর্বে দেওয়া লাইসেন্সগুলো বৈধ থাকবে, ফলে উদ্যোক্তাদের নতুন করে লাইসেন্স নিতে হবে না। বেসরকারি ইপিজেডগুলোতে বিদ্যমান বন্ডেড ও রেয়াতি সুবিধাও আগের মতো বহাল থাকবে। তবে এসব অঞ্চলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বেজা প্রয়োজনীয় যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
এদিকে জনবল ও প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বেসরকারি ইপিজেড পরিচালনার জন্য গঠিত গভর্নর বোর্ড ও নির্বাহী সেল বিলুপ্ত করা হয়েছে। নির্বাহী সেলে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সরাসরি বেজাতে বদলি হবেন এবং তাদের চাকরির পূর্বের শর্তাবলি আপাতত অপরিবর্তিত থাকবে।
এছাড়া বিলুপ্ত বোর্ড বা সেলের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে চলমান সব মামলা ও আইনি কার্যক্রম এখন থেকে বেজার আইনি কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়ে চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৬ সালে বেসরকারি খাতে ইপিজেড স্থাপনের সুযোগ দিয়ে ওই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনটির কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করে সরকার এটি রহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে নেওয়া এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।