বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও তলানিতে, ডিসেম্বর শেষে নেমেছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশে
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালের একই সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হিসাব অনুযায়ী ৬ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে অনাগ্রহ। তারা বলছেন, বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী নতুন বিনিয়োগ কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী নন, ফলে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চাহিদাও কমে গেছে। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়ায় উদ্যোক্তারা অপেক্ষার নীতিতে রয়েছেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের পরেই বড় ধরনের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে চান।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থায় কেউ ঝুঁকি নিয়ে নতুন প্রকল্পে যেতে চায় না। ফলে অর্থনীতিতে বিনিয়োগের গতি কমছে এবং ঋণের চাহিদাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে হলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন, যাতে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরতে পারে।
অন্যদিকে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোতে অর্থের জোগান থাকলেও বিনিয়োগে গতি না থাকায় সেই অর্থ যথাযথভাবে ঋণ হিসেবে বিতরণ হচ্ছে না, যা অর্থনীতির স্বাভাবিক চক্রকে ধীর করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে ডিসেম্বর শেষে প্রবৃদ্ধি সেই লক্ষ্যমাত্রার নিচে নেমে এসেছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সবশেষে বলা যায়, অর্থনীতির চাকা ঘুরতে হলে বিনিয়োগের সাহস দরকার, আর সেই সাহস আসে আস্থা থেকে, তাই স্থিতিশীলতা ফিরলেই আবার নতুন উদ্যোগের আলো জ্বলে উঠবে দেশের ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের আঙিনায়।