জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এলেও ৭ ব্যাংকে এক ডলারও আসেনি
সদ্য শেষ হওয়া জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স প্রবাহের মধ্যেও দেশের সাতটি ব্যাংকে পুরো মাসজুড়ে এক ডলারও রেমিট্যান্স আসেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে যে সাতটি ব্যাংকে কোনো রেমিট্যান্স জমা হয়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং চারটি বিদেশি ব্যাংক। তালিকায় বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের পদ্মা ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের নাম রয়েছে, যেগুলোতে জানুয়ারি মাসে প্রবাসী আয় একেবারেই আসেনি।
এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আল ফারাহ ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়াতেও পুরো মাসে কোনো রেমিট্যান্স জমা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রেমিট্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংকের শূন্য অবস্থান নিয়ে ব্যাংকিং খাতে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
একই প্রতিবেদনে জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন খাতভিত্তিক ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে আসা রেমিট্যান্সের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪০ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সবচেয়ে বেশি ২২৯ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারির আগের মাস ডিসেম্বরে দেশে এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল। এর আগে নভেম্বরে আসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে এসেছে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর আগস্ট ও জুলাই মাসে দেশে এসেছে যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তি দেয়, আর এই আয়ের প্রতিটি ডলার শুধু বৈদেশিক মুদ্রা নয়, প্রবাসে থাকা মানুষের পরিশ্রম, ত্যাগ আর পরিবারের মুখে হাসি ফেরানোর এক নিঃশব্দ গল্পও বয়ে আনে।