দশ মাস ধরে বন্ধ টেকনাফ স্থলবন্দর, সীমান্ত বাণিজ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা
প্রতিবেশী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রভাবে টানা দশ মাস ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আমদানি-রপ্তানি কেন্দ্র টেকনাফ স্থলবন্দর।
সোমবার ২ মার্চ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, নাফ নদীপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় সীমান্ত বাণিজ্য পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানিকারকেরা চরম আর্থিক চাপে রয়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের কোটি কোটি টাকা আটকে আছে। একই সঙ্গে গুদামে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা বন্ধ থাকায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বন্দরশ্রমিকরা। দীর্ঘ সময় কাজ না থাকায় অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় শ্রমিক আবুল হাসেম জানান, প্রায় দশ মাস ধরে কোনো আয় নেই। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে গেছে। দ্রুত বন্দর চালু না হলে জীবিকা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এই বন্দর দিয়ে আগে কাঠ, শুঁটকি, আদা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি হতো। এসব পণ্য থেকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় করত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই রাজস্ব আহরণ বন্ধ রয়েছে, ফলে সরকারও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে যাওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। নাফ নদীপথে নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা ও ওপার থেকে বাধার কারণে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে বন্দর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হতে পারে। তারা আশা করছেন, দ্রুত সমাধান হলে স্থানীয় অর্থনীতি আবারও সচল হবে এবং শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ লোকসান থেকে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।
সীমান্ত বাণিজ্য শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, এটি হাজারো পরিবারের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। তাই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে টেকনাফ বন্দরের চাকা আবার ঘুরবে, আর সীমান্তের এই জনপদে ফিরে আসবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার স্পন্দন।