চার বছরে ডলারের সবচেয়ে বড় দরপতন, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকছেন নিরাপদ সম্পদে
আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে গত চার বছরের মধ্যে মার্কিন ডলারের সবচেয়ে বড় দরপতন ঘটেছে। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেওয়ার পর এ দরপতন ঘটে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও সুইস ফ্রাঙ্কের মতো সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়ায় ডলার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। মঙ্গলবার ডলারের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়, যা টানা চতুর্থ দিনের মতো দরপতন। বুধবার সকালেও ডলারের দাম আরও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।
মঙ্গলবার আইওয়া অঙ্গরাজ্য সফরের সময় ডলারের দরপতন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ডলার ভালো অবস্থায় আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক কার্যক্রম শক্তিশালী রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ডলারের মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। মঙ্গলবারের পতন ছিল গত এপ্রিলের পর একদিনে সবচেয়ে বড় দরপতন।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড দখলসহ বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত নীতিনির্ধারণ ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে নতুন ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
ইন্টারেক্টিভ ব্রোকার্সের বাজার কৌশলবিদ স্টিভ সোসনিক বলেন, দুর্বল ডলার বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক হতে পারে, কারণ বিদেশি মুদ্রায় আয় ডলারে রূপান্তরের সময় লাভজনক হয়। তবে একই সঙ্গে দুর্বল ডলারের কারণে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে।
ডলারের পতনের প্রভাবে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী বৈশ্বিক মুদ্রাও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। সুইস ফ্রাঙ্ক ডলারের বিপরীতে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সুইস ফ্রাঙ্কের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সুএ: জুমবাংলা নিউজ